গত শুক্রবার রাতে শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ স্যার হঠাৎই ফোন করে বললেন কোঠারি ব্লাড ব্যাংক থেকে শ্রীকৃষ্ণ বাবু ফোন করেছিলেন ওনাদের রক্তের ভাঁড়ার একদম শূন্য , তাই স্যারকে অনুরোধ করেছেন দু একদিনের মধ্যে স্যারের ছাত্র-ছাত্রী তথা গার্ডেনরীচ এলাকার থেকে যে কজন ডোনার পাঠানো যায় পাঠাতে । স্যারের কলটা কাটা মাত্রই আমি সঙ্গে সঙ্গে গ্রুপের সদস্যদের জানাই । আপনারা অনেকেই জানেন প্রতি বছরের মত এ বছরও আমাদের দুই ভাই অর্ক এবং নাফিসের জন্য মে মাসে আমরা প্রাক্তনীরা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছিলাম যাতে ওদের ট্রান্সফিউশন টা নির্বিঘ্নে চলে , ওদের মতই অনেক ভাই বোনের ট্রান্সফিউশনের রক্তের যোগান দেয় কোঠারি ব্লাড ব্যাংক । তাই বেশি সময় ব্যয় না করে প্রাক্তনীর যোদ্ধারা এক কথায় প্রস্তুত রক্ত দিতে । খাতায়-কলমে ওই দিন ছেলে দের ক্ষেত্রে সবে 90দিনের গন্ডি পেরিয়েছে । মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা 120 দিন, সেই কারনে প্রাক্তনী র কয়েকজন মেয়ের আগ্রহ থাকলেও তারা এই ব্যাপারে আর এগোতে পারেনি। রক্তের প্রয়োজনে শ্রীকৃষ্ণ বাবু কোনোদিনই আমাদের হতাশ করেননি তাই এক রাতের মধ্যে ওনারই আহ্বানকে সম্মান জানিয়ে আমাদের সাধ্যমত ওনাদের পাশে দাঁড়াতে ,ঠিক বন্ধুত্ব দিবসের দিন সকাল সকাল প্রাক্তনী র পক্ষ থেকে অনুপ দে, দেবজ্যোতি দে নিয়োগী, অর্পণ পাল, চিরঞ্জিত রয় ও অরিত্র ঘোষ গিয়ে রক্ত দিয়ে আসে ।
আমরা জানি এতে ব্লাড ব্যাংকের রক্তের হাহাকার মিটবে না ,তবু আমরা এই ভয়ঙ্কর সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের একটা মানসিকতা রাখতে চেয়েছি সকলের সামনে , দায় নিতে চেয়েছি নিজেদের কাঁধেও । আমাদের অনুরোধ রইল প্রতিটি সংগঠন, ক্লাব ও প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে যারা প্রতিবছর রক্তদান শিবির আয়োজন করেন মুমূর্ষ রোগীদের কথা মাথায় রেখে দয়া করে বিশেষ কোন দিনক্ষণ , নাড়ি নক্ষত্র , দেখে রক্তদান শিবির করার প্রথা ভেঙে বেরিয়ে আসুন। ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন চারপাশে প্রচুর ক্যাম্প হবে, কিন্তু তার এক মাস আগে থেকে ক্যাম্প করার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যায় । আমাদের বিভিন্ন উৎসব ,পুজো পার্বণ এর মাসে রক্তদান শিবির করা বন্ধ থাকে। সেই সময় চারিদিকে রক্তের হাহাকার চলে । তখন এগিয়ে এসে ক্যাম্প গুলি আয়োজন করুন তাতে আমার-আপনার , মুমূর্ষ রোগীদের এবং সমাজের কল্যাণ হবে ।।
🙏🙏

About the Author: admin

Leave A Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *