” আঁধার রজনী ভয় কি জননী, আমরা আনিবো নুতন ভোর “
হ্যাঁ ঠিকই ভাবছেন আবার একটা গল্প,আরো অনেকগুলো স্মৃতি , আর অনন্ত তৃপ্তি …..
গল্পের শুরুটা এখন নয়, নয় নয় করে তাও প্রায় দেড় বছর আগের, আপনাদের সকলের হাত ধরে “প্রাক্তনী”-র এগিয়ে চলার শুরুতেই যে লক্ষ্য বিন্দু স্থির হয়েছিল তার অন্যতম ছিল বিদ্যালয়ের পাশাপাশি,বিভিন্ন সামাজিক কর্মে অংশীদার হওয়ার || শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক মহাশয়ের কথায় “একজন ছাত্রের প্রকৃত শিক্ষার প্রকাশ তার সামাজিক গঠন মূলক চিন্তা শীলতায়, প্রাক্তনী-র হাতধরে যার প্রকাশ হোক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকেই ” ||
বিগত দুবছরের সাধারণ সভাতেও উপস্থিত সদস্য দের মননে প্রকাশ পেয়েছে সেই একই সুর,তাদের সুচিন্তিত ভাবনায় প্রস্তাবিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি || বুঝে উঠতে দেরি হয়না আমাদের ভাবনা ও মানসিকতার মিল ||
এ কথা বলতে গর্ববোধ হয় আমাদের অন্যতম সদস্যা বর্ষা মান্না চেয়েছিলেন ব্যক্তিগত ভাবে তাঁর সদ্য শুভ পরিণয়ের আনন্দ ভাগ করতে … কিছু দেব শিশু কে,যাদের কাছে সহজে কেউ পৌছায়না ভালোবাসা , যাদের চেয়ে নিতেও কুন্ঠা বোধ হয়, যারা চেনা শহরের থেকে দূরে,যাদের কাছে ক্ষিন সহানুভূতির আলো-পাশে থাকার আশ্বাস… সেই তাদের পুজোর মরসুমে কিছুটা আনন্দ উপহার দিতে… পাশে আহ্বান জানিয়েছিল প্রাক্তনী পরিবার কে , অ্যাডমিন সদস্যদের সভায় তা সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয় || খোঁজ আসে আমাদের বন্ধু-সংগঠন Quest ForLife এর প্রিয় সুমনা দি, অরিত্র দা ও দেবশ্রী দির মাধ্যমে , মালদা টাউন থেকে প্রায় 75 কিমি দূরে ,দক্ষিন দিনাজপুরের প্রতন্ত গ্রামের 32 জন দেব শিশুর একটা ঈস্বরালয় “নীলকণ্ঠ স্বর্গ আশ্রম “… তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শুরু হয় প্রস্তুতি ll #দীপ_মান্না ও Suvajit Ghosh প্রস্তাবে পৃথক ফান্ড গঠন করা হয় … প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে প্রতক্ষ্য ভাবে হাতে হাত মেলায় Pritha Sarkar Satarupa Roy Alan Kar Chiranjit Royব্যবস্থা করে সহযোগী শিক্ষা সামগ্রীর,Sakiul Rahaman ব্যবস্থা করেন বিছানার চাদরের , কেক,চিপস প্রভিতি ড্রাই ফুড এর ব্যবস্থায় Biswajit Sarkar,ও শতরূপা রায়ের মা। নীলকণ্ঠ আশ্রমের দেব শিশুদের পুজোর কটা দিন প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর ব্যবস্থা ও বড়াইল আশ্রমে প্রয়েজনীয় নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেন মাননীয় শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ ঘোষ মহাশয় ,প্রাক্তনী সদস্য পৌলমী চক্রবর্তী ও তার বান্ধবী,সব্যসাচী দাস,শমীক আইচ, সুস্মিতা গুহ, তমসা কাঁড়ার, অয়ন ঘোষ, অপূর্ব শর্মা, সুতপা পাল, সন্দীপন পাল, মেধা রায় ও তার ছোড়দা, দীপ মান্না,সৌমিতা মন্ডল, শুভজিৎ ঘোষ,সঙ্গীতা বড়ুয়া ও প্রাক্তনী পরিবার।।ব্যক্তিগত ভাবে 32 জনের মধ্যাহ্ন ভোজের ও (গামছা, সাবান, তেল, পেস্ট, ব্রাশ ইত্যাদি সমন্বয়ে )প্রত্যেকের ফ্রেশ কীটের দায়িত্ব নেয় বর্ষা মান্না ll সুমনা দি রা ব্যাগ বন্ধি করেছিল প্রত্যেকের জন্যে বালিশ ,তোশক …..আর বাকিরা কিছুদিনের প্রয়োজনীয় কিছু রান্নার সামগ্রী কেনায় … আমরা যাচ্ছি জেনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্রদ্ধেয় দেবব্রত স্যার খোঁজ দেন আরো একটি আশ্রমের ” বড়াইল উপজাতি কল্যান সংঘ আশ্রম”, কিছুদিন আগেই #এইসময় পত্রিকায় ফুটে উঠেছিল যাদের অনাহারের করুন চিত্র ll তিঁনি জানান সমগ্র বিদ্যালয় পরিবার তাদের পাশে দাঁড়াতে চায় … আমরা জানিয়েছিলাম আমরা পৌঁছে দেব আপনাদের ভালোবাসার ওম …সুমনা দি #এইসময় পত্রিকাতে কর্মরতা হওয়ায় জায়গা চিনতে দেরি হয়নি … সাথে আমরাও ঠিক করি অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা করা হবে ওদের জন্যে আমাদের তরফ থেকে , ওদের পরিস্থিতি ও প্রয়োজন বুঝে তাই ব্যবস্থা করা হয় আর্থিক সহযোগিতার …
শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রজিৎ স্যার এর অভিভাবকত্বে গত 23 তারিখ প্রাক্তনীর 11জনের প্রতিনিধি দল পৌঁছায় কলকাতা থেকে প্রায় 425 কিমি দূরে সাথে QFL এর অন্যতম সদস্যা মৌসম রহমান …ছিল টেথিস্কোপ হাতে দেবশ্রী দিও ll
আর যাওয়ার পরের বাকি গল্প শুরু থেকে শেষ রইলো নিচের তথ্যপূর্ন্য চিত্রে …
আমরা পুজোর দিন গুলোয় হয়তো থাকবো চোখে আলো আর গায়ে আতর মেখে , কখনো পিজা কখনো বিরিয়ানিতে , আপন জনের জনস্রোতে …. সে কটা দিন না হয় রইলো ওরা গাল ভরা দুধে ভাতে ll
আমরা ফিরলাম বাংলার গভীরে গভীরে ফুটে ওঠা ক্ষতর ব্যাথা আপন করে … জানিনা কতটুকু পারলাম ,কতটুকু করলাম কিছু … তবু পুজোর মরসুমে ভালো থাক ওরা …
